Posts

ইবলিশ শয়তান

Image
খুব ছোট্টবেলা থেকেই টুকটাক লেখালেখি করি। ক্লাস সেভেন বা এইটে যখন পড়ি সেই সময়ে আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পাবনার একটি অখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'দোলনচাঁপা'য় লিখেছিলাম সেই প্রবন্ধটি। যার নাম 'ইবলিশ কেন শয়তান'। প্রথম লেখায় আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। অনেকের প্রশংসাও পেয়েছিলাম।     তারপর থেকে নিয়মিত লেখালেখি করি। সমাজের যেখানে অসংগতি ও অন্যায় সেখানেই কলম ধরার চেষ্টা করি। আবার নিজের ভালো লাগা থেকে লিখি। মাঝেমধ্যে লেখার আবদারেরও লিখি। তেমন একজন লেখার আবদার নিয়ে এসেছিল। সে আর কেউ নয়, স্বয়ং 'ইবলিশ শয়তান'। একাকী বাসায় ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎ গভীর রাতে, নাকেমুখে কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। কে যেন আমার নাম ধরে ডাকছে, ' নঁজরুল কঁবীর ওঁ নঁজরুল কঁবীর ' ডাক শুনে চমকে উঠে বললাম, 'কে? কে?' অন্ধকারময় ঘরের বারান্দা থেকে ধোঁয়া উড়ছে। তার মধ্যে থেকে কন্ঠ ভেসে এলো, 'আঁমি ইঁবলিশ' হঠাৎ ঘুম ভেঙেছে। তাই থতমত খেয়ে বললাম,  'বালিশ! এতরাতে কে চাই বালিশ?' 'বাঁলিশ নাঁ, আঁমি ইঁবলিশ' 'ইবলিশ! কোথাকার ইব...

কাছে আসার গল্প

Image
জানুয়ারি ২০১৪ সাল। ডিজিল্যাবে আমার চাকরি হয়। মিরপুর-১০ এর ডিজিল্যাবে পহেলা ফেব্রুয়ারিতে জয়েন্ট করব, এই শর্তে চাকুরির এ্যাগ্রিমেন্টপত্রে সাইনও করেছি। আরেকটি জব ধানমন্ডি-১৫ তে। কাজী ফার্ম লিঃ এর দীপ্তটিভিতে "রাইটার" হিসেবে ট্রেনিং করতেছি।  এজন্য ধানমন্ডি-২ এর 'পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ' এর প্রধান শাখায় যেখানে বর্তমানে কর্মরত আছি, সেখানে চাকুরী হতে অব্যাহতি চেয়ে পহেলা জানুয়ারিতে রিজাইন লেটার দিয়েছি। চলছে কোনমতে, একজন স্বপ্নভঙ্গ ছেলের জীবন যুদ্ধের মহা সংগ্রাম।      তাই প্রচন্ডরকমের ব্যস্ততা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২.৩০মিনিট পর্যন্ত দীপ্তটিভিতে, যদিও ৫টা পর্যন্ত থাকার কথা। আর বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত 'পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ' এর প্রধান শাখায় শিফটিং ডিউটি করছি। তারপরও রাতে বাসায় ফিরে রাত জেগে দীপ্তটিভি'র জন্য ল্যাপটপে এসাইন্টমেন্ট তৈরি করতেছি।  এতো সব ঝামেলার মধ্যে আরও একটি বিষয় হুট করে যুক্ত হলো। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ মা বাবার পছন্দের উপর ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। তারা পছন্দ করেছেন। আমিও ছবি পাঠাতে বললাম। আমার ছোটভাই ছবিগুলো জিমেইল করে পাঠ...

আমাদের স্বস্তি দিন

সকালে রিক্সায় চড়ে অফিসে যাচ্ছি, কিছুদুর যেতেই রিক্সা থেমে গেলো, তাকিয়ে দেখি বিশাল জ্যাম। অপেক্ষার পর অপেক্ষা করেও চাকা ঘুরার নাম নেই। অফিসে সময় বয়ে যাচ্ছে অগত্যা বাধ্য হয়ে রিক্সা ভাড়া পঞ্চাশ টাকা দিয়ে হাঁটা দিলাম... হাঁটতে হাঁটতে শুনলাম, প্রধানমন্ত্রী গেছে, সেই কারনে এত্ত জ্যাম। এমনিতেই প্রতিদিন দূর্বিষহ জ্যাম থাকে আর যেদিন কোন ভিআইপি যান, সেদিনে কথা কি বলব... মাননীয় ভিআইপিগণ, আপনারা আমাদের রক্ত-ঘামের টাকায় ভিআইপি ভাবে চলাফেরা করেন। করুন, আপত্তি নাই। আপত্তি সেখানেই, আপনাদের আ রাম আয়েশ এত কম দেখে। আপনাদের সড়ক পথে না আকাশ পথ দিয়ে চলাচল করা উচিত! তাতে আপনাদের আর একটু আয়েশ হয় আমরা একটু স্বস্তি পায়। এর জন্য আবগাবী সূল্ক করের মত খাত বের করুন। প্রয়োজনে হাঁড়ির চালের ট্যাক্স বসান। আমরা প্রতিদিন একমুটো চাল তুলে রাখবো আপনাদের জন্য... আপনারা উড়াল পথে চলুন আমাদের স্বস্তি দিন.....

ভাত দে হারামজাদী

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ইশতিহারে কেজি প্রতি চালের দাম ১০ টাকা ছিল। বাজারে চাউলের দাম এখন কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। দেশের হারামখোর ও হারামির বাচ্চাদের জন্য এই দাম মামুলী ব্যপার হতে পারে কিন্তু হালাল পথে উপার্জন কারীদের জন্য এই দাম শরীর থেকে চামড়া খুলে নেওয়ার সমান। ১৯৭২ সালে সেই সময়ের সাহসী কবি রফিক আজাদ লিখেছিল, "ভাত দে হারামজাদা,,, না হলে মানচিত্র খাবো"! আজ তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত লিখতেন, "ভাত দে হারামজাদী,,, না হয় উন্নয়ন খাবো"!!

নুডুলসের খিচুড়ি

সকালে পাউরুটি দিয়ে নাস্তা করার পর গিন্নী বলল, - দুপুরে কি খাবে? বললাম, চালের যে দাম ভাত আর খাবো না ভাবছি... -তাহলে খাবে কি? বললাম, নুডুলসের খিচুড়ি!!

ভ্যান রাখার যাদুঘর

অফিসের বিশেষ কাজে ধানমন্ডি-২ এর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের প্রধান শাখায় গেছিলাম। শ্যামলী থেকে বেশি দূরে নয় কিন্তু যানজটের কারণে সময় এতটাই লেগে যায় যে, এই সময়ের মধ্যে চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা যাবে। তো  যানজটের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অবশেষে পৌছালাম।  কাজ সেরে ফেরার পথে সাইন্সল্যাবটরীর মোড়ে এসে দাঁড়ায় বাসের জন্য। এখানে এসে পুরাই থ' মেরে গেলাম।একটা বাসও নেই, রাস্তা পুরা ফাঁকা। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি, আমার সাথে অনেক আম-পাব্লিকও দাঁড়িয়ে আছে বাসের অপেক্ষায়। আমাদের দাঁড় করিয়ে রেখে, প্রায়ই আধা ঘন্টা পর হুইসেল বাঁজিয়ে কোন এক মন্ত্রীমহোদয় চলে যান।  ভাগ্যিস, সেদিন প্রধানমন্ত্রী বা উজিরে খামখা রাষ্ট্রপতি যাননি। তাহলে রাস্তায় দাঁড়ানো সুযোগও থাকত না, খেদিয়ে সবাইকে কোন এক মাইনকা চিপায় দাঁড় করে রাখত ঘন্টা পর ঘন্টা। মন্ত্রী সাহেব যাওয়ার পর, বানের পানির মত আটকে থাকা বাস গুলো আসতে শুরু করে। সবাই বাসে উঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দিলো। আমি প্রচন্ড ভিড় ঠেলে উঠলাম একটি লোকাল বাসে। বাসে যাত্রীর ভিড়ে কোনমতে ইঞ্জিল কভারে একটু বসার সুযোগ পেলাম। একটু আয়েশ করে মোবাইল বের করে ক্যান...

এ তালা ভাঙবো কেমন করে

Image
ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় প্রায়শই আমার ভুল হয়। বাড়ি আসার সময় দরকারি কোন না কোন কিছু ফেলে আসি। যেহেতু এবার আগেই আমার ফ্যামিলিকে গ্রামের বাড়িতে রেখে এসেছি, তাই ভুলে সম্ভাবনা ৯৯ পার্সেন্ট মাথায় রেখে রাতেই সব গোছগাছ করেছি। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সব প্রয়োজনীয় জিনিষ বিছানার উপর রেখে, তারপর ব্যাগে ভরেছি। যাতে ভুল করে কিছু ফেলে রেখে না যায়।   রুম থেকে বের হওয়ার আগেও দুই মিনিট ভেবেছি, কিছু ফেলে যাচ্ছি কিনা। সবঠিক আছে, নিশ্চিত হয়ে রুম থেকে বের হলাম। তারপর রুমে তালা দিয়ে ড্রইংরুম ভিতর থেকে লক করে বের হয়েছি। সিড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে কেচিগেট খুলতে গিয়েই বিপত্তি টের পেলাম। 'ফুল' মানে বোকা বনে চলে গেলাম। বেশি কেয়ারফুলে যা হয়, তাই হয়েছে। রুমের ভিতর চাবির  গাট্টি রেখে তালা দিয়ে বের হয়ে এসেছি।  এবার পড়ে গেলাম মহাবিপদে। কেচিগেট খুলে বের হতে পারছি না আবার ফিরে গিয়ে রুমে ঢুকবো, সেটাও পারছি না। সাতসকালে, নিচতলার দরজায় নক করে কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। অগত্যা অপেক্ষা থাকলাম, কখন কে বাহিরে বের হয়? তখন বের হবো। তখনই মনে পড়ে গেল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সেই বিখ্যাত ...