Posts

দৈনিক ফেসবুকে

Image
একদিন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছি। আমায় দেখে এক পরিচিত মুরব্বি চাচা প্রশ্ন করলেন, -শুনলাম, তুমি নাকি লেখালেখি করো? -চাচা, এই টুকটাক চেষ্টা আর কী -তা বাবাজী, কোন পত্রিকায় লিখো? -'দৈনিক ফেসবুকে' আমার চটজলদি উত্তর শুনে অবাক হয়ে বললেন, -এইটা আবার কোন পত্রিকা? -চাচা, এইটা পত্রিকা না। সোস্যাল নেটওয়ার্কে লিখি। -তাহলে 'দৈনিক' বললে কেন? -দৈনিক'ই লিখি। তাই বলেছি... -আচ্ছা! তা, কি লিখো। গল্প না কবিতা? -চাচা, এসব কিছুই লিখি না -তাহলে লিখো কি? -স্ট্যাটাস লিখি -স্ট্যাটাস! সেতো খান্দানী ব্যাপার-স্যাপার। লেখা যায় নাকি? -চাচা, সেই খান্দানী ব্যাপারই ফেসবুকে মামুলি ব্যাপার। -বুঝেছি, তা তোমার লেখার বিষয়বস্তু কী? -চাচা, 'শান্তি মলম' শিক্ষিত চাচা বুঝতে পেরে ইয়ার্কির সুরে বললেন, -কবিরাজি, ভালোই করছো তাহলে? -জ্বী চাচা, ঘুণেধরা সমাজের রন্ধে রন্ধে চুলকানি-বিখাউজ। কবিরাজি না করে উপায় আছে। -শুনেছি, তোমার শান্তিমলমে নাকি লোকের গা জ্বলে? -দাদ-একজিমা গোষ্ঠীর লোক হলে কিছুটা জ্বলে... -তাহলে শান্তি কোথায়? -আছে তো -কই?  -চাচা, এইযে চু...

ডিম বালক

Image
মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর 'ফ্রেজার অ্যানিং' এর মাথায় ডিম ভাঙ্গে ১৭ বছরের এক অস্ট্রেলিয়ান যুবক। সেই যুবকের নাম 'উইল কলোনি'। সে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে। তাকে 'এগবয়' নামে ডাকা হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো অস্ট্রেলিয়ান এক রাজনীতিবিদের মাথায় ডিম ফাটিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী 'উইল কলোনি' নামক বালকটি এখন আলোচিত বীর। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টরিয়া এলাকায় বসবাসকারী সতেরো বছর বয়সী এই বালক দুই হাজার ডলার খরচ করে কোর্ট থেকে জামিন নিতে হয়েছে। তার জন্যে ফেসবুকে দুই হাজার ডলার কোর্ট ফি সংগ্রহের জন্য আবেদন জানানো হলে,  মাত্র কয়েক ঘন্টায় প্রায় ২২হাজার ডলার জমা পড়ে। তার আইনি লড়াইয়ে লড়বেন অস্ট্রেলিয়ার নামকরা অনেক আইনজীবীরা বিনাপয়সায় জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর টুইটারে কনোলি জানিয়েছেন, ওই মুহূর্তে মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নাই। যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যান...

নিজের ছবি আঁকা চিত্রশিল্পী

বাড়ি থেকে ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় এসেছি দু'দিনও হয় নাই। আবার বাড়ি যাচ্ছি শুনে আমার বন্ধুবর এক কলিগ বলল, -বাড়ি থেকে গতপরশু আসলেন। আবার যাবেন? বললাম, -হ্যাঁ, স্মার্টকার্ড নিতে যাবো বন্ধুবর কলিগ ইয়ার্কির সুরে বলল, -আপনি এমনিতেই স্মার্ট! আবার স্মার্ট  কার্ডের দরকার কি? একথা শুনে হাসলাম।  স্মার্টকার্ডের দরকারটা আমি  হাড়েহাড়ে টের পেয়েছি। অনেক সময়, বুঝিয়ে দিতে হয়েছে এই জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিখানা আমার। আবার অনেক সময়, ফটোকপির কার্ডটি আমি নিজেই চিনতে পারি না। একটা ঘটনা বলি, একদিন ইমার্জেন্সি টাকা পাঠাবো দুলাভাইয়ের উত্তরা ব্যাংক একাউন্টে। টাকা জমা দিতে ব্যাংকে গেলাম। কর্মকর্তা বলল, -এটা পূরণ করুন আমি টাকার রশিদে টাকার অংক লিখে বললাম, -এইযে নিন -আরে, রশিদসহ আপনার সকল ইনফর্মেশন লাগবে। সেগুলো ফরম পূরণ করুন। একথা শুনে অবাক হয়ে বললাম, -নিজ পরিশ্রমের টাকা পাঠাবো। তার জন্য আবার তথ্যও লাগবে! -জ্বী, এখন থেকে  টাকা পাঠাতে হলে তথ্য দিতে হবে। আজব নিয়ম! তা কি আর করার আছে। বিশাল বড় ফর্দে চৌদ্দগোষ্ঠীর নামধাম ও যাবতীয় তথ্য পূরণ করে টাকাসহ জমা দিলাম। এবার বলল, ...

আমি নেতা হবো

Image
লেকপার্কে বসে এক জ্যোতিষী হাত দেখছে দেখে ভাবলাম, হাতটা একটু দেখায়৷ দেখি, ভাগ্যে কি আছে। যদিও এসব বিশ্বাস করি না। তবুও আকৌতুহলী হয়ে হাতটা এগিয়ে দিলাম। জ্যোতিষী আমার হাতটা ধরে চোখমুখ খিঁচে বলল, -: বাহ! তোর হাত তো ফক ফকা শুনে বললাম, -: জ্বী, মাত্রই হাত ধুয়ে এসেছি আমার চোখের দিকে জ্যোতিষী নিখুঁত দৃষ্টিতে তাকালো। তারপর আমার হাতের রেখায় চোখ রেখে বলল, -: তোর কপালে রাজতিলক জ্বলজ্বল করছে! একথা শুনে অবাক হয়ে বললাম, -: তাই! তা কি দেখা যাচ্ছে? -: বৎস, এই বছরই তোর চাকরি নিশ্চিত আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে বললাম, -: জ্বী বাবা, একটা চাকরি নিশ্চিত হয়েছে আমার কথায় সাড়া পেয়ে জ্যোতিষী এবার কনফিডেন্সের সহিত বলল, -: তোর হাতের রেখা বলছে, সামনের বছরেই বিয়ে। মেয়ে বহুত সুন্দরী... আমি উৎসাহী হয়ে বললাম, -: তাই নাকি! তো যে বউটা এখন আছে ওটার কি হবে? আমার এমন কথা হয়তো তিনি আশা করেনি। তাই কিঞ্চিৎ রেগে গিয়ে বলল, -: বেত্তামিজ পোলা, হাত দেখাতে এসেছিস ক্যান? -: এমনিতেই, মন চাইলো তাই -: শোন, মনকে সবসময় প্রশ্রয় দিবি না -: মন যা চাই, আমি সেটাই করি -: তুই বেশি কথা বলিস ...

হার্টের জন্য ক্ষতিকর সুন্দরী নারী

Image
'সুন্দরী নারীরা পুরুষের হার্টের জন্য ক্ষতিকর।' মেডিকেল সাইন্সের দেওয়া এই তথ্যটি এবার প্রমাণিত করলেন 'ওবায়দুল কাদের সাহেব'। উনি এখন হার্টের সমস্যা নিয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  দেশের সকলেই অবগত আছে। উনি সবসময়ই সুন্দরী নারীদের নির্যাতনের শিকার হইতেন।  মানে, যেখানে ওবায়দুল কাদের সেখানেই সুন্দরী নারীদের ঢ্ল। সুন্দরী নারীদের সাথে সেল্ফি তুলতে তুলতে উনি ক্লান্ত হয়ে পড়তেন। স্বভাবতই এই দুর্বলতা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই এটা নিয়ে রাজনীতি করার অবকাশ নেই। তবে একটা কথা বলার আছে, উনার চিকিৎসা করতে সিঙ্গাপুর থেকে ডাক্তার উড়িয়ে আনলেন। তারপর চিকিৎসা নিতে নিজেই উড়ে সিঙ্গাপুর চলে গেলেন। অথচ উনারা সকাল সন্ধ্যায় ঢোল পিটিয়ে বলতেন, দেশ সিঙ্গাপুর হয়েছে। উপর থেকে ঢাকাকে দেখলে লস এঞ্জেলস মনে হয়। সেই লস এঞ্জেলসের হাসপাতাল রেখে কাদের সাহেবরা ছুটেন আসল সিঙ্গাপুরে কারণ কি? প্রশ্ন পোঁকা মাথার মধ্যে ভনভন করে বলছে, এতো উন্নতি গেলো কই? ১০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে তাহলে করলেনটা কি? সে যাইহোক, অসুস্থ মানুষের সমালোচনা না করে আসুন দুহাত তুলে দোয়া ধরি। সবাই ...

বিমান হামলা: একটি ইস্যুস্ক্রিপ্ট

Image
বিমান হামলা একটি ইস্যুস্ক্রিপ্ট কিছুদিন আগের কথা, পুলিশ সারারাত বোমা পাহারা দিয়ে সকালে উদ্ধার করে 'বেগুন'। এবার নতুন নাটক মঞ্চায়িত হলো। বিমানে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে 'খেলনা পিস্তল'। কিছুদিন চলবে এই ইস্যুটা। সেইসাথে আড়াল হয়ে যাবে চকবাজার ট্রাজেডি আর ২৫ ফেব্রুয়ারী ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার দিবসের কথা। এভাবে ক'দিন পর আর একটি ইস্যু জন্ম নিবে। কথা হচ্ছে কথা তা না, বিমানের জানালা খোলা যায় না। তথ্যটা, এই নাটকের স্ক্রিপরাইটারকে জানানো উচিত ছিলো। উনি তো বাসের স্ক্রিপ্ট মাথায় রেখে বিমানের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। চিত্রপটে, এক বিমান যাত্রীর ইন্টারভিউ দেখলাম, 'জানালা দিয়ে বের হয়ে পাংখা দিয়ে নেমে এসেছে'! আরেকজন মেজর জেনারেলের বক্তব্য শুনলাম, 'ছিনতাই কারীর সাথে গোলাগুলি হয়েছে'।  খেলনা পিস্তল দিয়ে গোলাগুলি করা যায়! এই ঘটনাটি ঘটার আগে যারা জানতেন না। তাদের বলি, আমি প্রায়শই রাতে আমার ছেলের সাথে খেলনা পিস্তল দিয়ে গোলাগুলি খেলি। তবে একটা বিষয়টা আমার কাছে বোধগম্য নয়, যেখানে বডি স্প্রে নিয়ে ঢোকা যায় না সেখানে অস্ত্র নিয়ে ঢুকছে ছিনতাইকারী। সেই ছিন...

নুরা পাগলার হিসাব

নুরা পাগলা বসে মাথা চুলকাচ্ছে। দেখে বললাম, -কিরে মাথা চুলকাচ্ছিস ক্যান? বলল, -মাথা চুল্কাচ্ছি না। হিসাব মেলাচ্ছি... -কিসের হিসেব? -দুই কোটি টাকার হিসাব -দুকোটি টাকা! এটা কোন টাকা নাকি! শুনিস নাই, অর্থমন্ত্রী আবুল মালের কথা। -কি কতা? -চার'শ কোটি টাকা লুটপাট হলো। উনি বললেন, চার'শ কোটি টাকা কোন টাকায় না। সেখানে তুই দুকোটি নিয়ে ভাবছিস? নুরা পাগলা উদাস মনে বলল, -গুরু, ভাবি কি সাধে? দুই কোটি টাকার মামলায় যদি মায়ের ৫ বছর আর ছেলে ১০ বছরের জেল হয়। তাহলে বর্তমানে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকা চুরির মামলায় মা ও ছেলের কয় বছরের জেল হবে? আমি টাস্কি খেয়ে বললাম, -ওরে বাব্বা! এটার হিসাব করতে তো ক্যালকুলেটর লাগবো -তাহলে যাই, ক্যালকুলেটর চেয়ে আনি। -তোর কি মাথা খারাপ? ঘটনা শুনিস নাই, ছাত্রলীগের কাছে ক্যালকুলেটর চাওয়ায় এক ছাত্র চোঁখ খুঁয়েছিল। -কি বলেন! তাইলে হিসাব ক্যাম্নে করুম? -দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আয় -দাঁড়িপাল্লা! কি করবেন? -কেজিতে হিসাব করবো -কিভাবে? -বলছি, আগে আন। সাথে আরো কিছু হিসাব যোগ করবি -কি বলেন গুরু? -রানা প্লাজার শ্রমিকদের জন্য অনুদান আসা ১১৭ কোটি টাকার মধ্যে ...