Posts

কিট ও কীটপতঙ্গ

Image
কিট ও কীটপতঙ্গ ঝড়ে বিধস্ত জঙ্গল। গাছ উপড়ে পড়ে আছে। এক লোক চিৎকার করে কাৎরাচ্ছে গাছে নীচে চাপা পড়ে। তাকে বাঁচানোর জন্য আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসে। দা, কুড়াল, খুন্তী দিয়ে গাছে কোপ দিতে যাবে; এমন সময় কেউ একজন বলে উঠল, 'এ-ই গাছ কাটা যাবেনা। এটা বনবিভাগের গাছ। তাদের অনুমিত ছাড়া গাছ কাটা ঠিক হবেনা।' সমাজের লোকজন একযোগে বলে উঠল, 'তা ঠিকই বটে। আগে অনুমতি নিতে হবে।' দা, কুড়াল, খুন্তী ফেলে সবাই মিটিংয়ে বসে। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, লিখিত দরখাস্ত করতে হবে। এদিকে লোকটি গাছের নীচে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আর বলছে, 'ভাই, আগে আমাকে বাঁচান।' সমাজের লোকজন তাকে ধমক দিয়ে বলল, 'ঐ মিয়া, আমরা কি বসে আছি? তোমাকে বাঁচানোর জন্যই তো কাজ করছি।' সমাজের লোকজন বন বিভাগের অফিসে দরখাস্ত জমা দিলো। বন বিভাগ তদন্ত কমিটি করলো। সে কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করতে আসলো। তখনও লোকটি মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে আর চিৎকার করছে। বন বিভাগের লোকজন তার চিৎকার শুনে রেগে বলল, 'ঐ মিয়া চিল্লাইবা না, দেখছো না আমরা কাজ করছি। তোমাকে উদ্ধারের অফিসিয়াল প্রসেস চালাচ্ছি।' বন বিভাগ তদন্ত করে রিপোর্ট নিয়ে অফিসে গেলেন। ব...

একজন করোনাযোদ্ধা

Image
একজন করোনাযোদ্ধা   অফিস থেকে বের হওয়ার সময় খেয়াল করি। চার্জ ফুরিয়ে মোবাইলটা বন্ধ হয়ে আছে। পকেটে মোবাইলটা রাখতেই বিপদ আরেকটা টের পেলাম। ভুল করে বাসার চাবি ফেলে এসেছি! এই রাতে বাসায় এখন ঢুকবো কেমন করে? বাসায় ফোন করে গেট খুলতে বলবো, সেটাও বলতে পারবো না। বড়ই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। এখন শেষ ভরসা বাসার কেয়ারটেকার। তাকে ভালোই ভালো, পেলেই হলো। এই ভাবনা-চিন্তায় রওনা দিলাম।  আমার দশ বছরের ঢাকার জীবনে এমন সুনশান-নিস্তব্ধতার শহর দেখি নাই। নির্জন কোলাহলমুক্ত রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম আলোয় হাঁটতে ভালোই লাগছে। গত একমাস এভাবেই হেঁটে বাসায় যায়। যদিও অফিস থেকে এম্বুল্যান্স সার্ভিস দিছে। আমার ব্যাকওয়ার্ড রাস্তার কারণে যায় না। একদিন অবশ্য এম্বুল্যান্সে গেছি, তবে বাসায় যেতে পারিনি। অফিস থেকে উঠে শহর ঘুরে আবার অফিসেই এসে নেমেছি। মিরপুর শ্যাওড়া পাড়া থেকে দু'তিন মিনিট সময় লাগে আমরা বাসায় হেঁটে আসতে। অফিস থেকে ব্যাকসাইড হওয়ায় ওদিকে যাতায়াত কম, সেখানে গিয়ে পইপই করে ঘুরেও আমার বাসার গলির মুখ আমি খুঁজে পায়নি। রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ হচ্ছে। উচু বেষ্টনীর মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। ড্রাইভারকে বললা...

মধ্যবিত্তের কথা বলছি...

Image
মধ্যবিত্তের কথা বলছি   এই কিছুদিন আগের কথা। আমার বাচ্চার সুস্থতার জন্য ওর আম্মু মানত করেছিল। একটা মুরগি সাদগা দিবে। আমাকে বলল, 'তুমি একটা মুরগি কিনে কোন গরীব মানুষকে দিয়ে দাও।' এর আগেও বেশ কয়েকবার মানত করেছে। সেগুলো দ্রুতই পূরণ করেছি। যেগুলোর বেশিরভাগ ছিল মসজিদে টাকা দান। কিন্তু এবার সে মানত করেছে, জানের সাদগা হিসেবে একটা দেশী মুরগি দিবে।  এখন মুরগি কিনে কাকে দিবো? মনে মনে এমন জনকে খুঁজতে থাকি। পীরের দরবার কিংবা মাজার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করিনা। রাস্তার ফকির-মিসকিনকে দিবো ভাবলাম। কিন্তু কর্পোরেট ফকিরের ভিড়ে সত্যিকারের ফকির খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই বিষয়ে নিয়ে অন্য একদিন আর্টিকেল লিখবো।    যাইহোক, বউয়ের মানত পূরণে দুদিন দেরি হওয়ায় ঘ্যানঘ্যান শুরু করে দিল। 'তোমাকে একটা মুরগি সাদগা দিতে বলেছি। তুমি দিচ্ছো না কেন?' বললাম, 'দেখ এটা আমাদের গ্রাম না। যদুর বাপ মধু মিয়া গরীব মানুষ। একটা মুরগি কিনে দিয়ে আসলাম। খেয়েদেয়ে দোয়া করলো। এটা হচ্ছে ঢাকার শহর! না জেনে যাকে তাকে দিলে পিছে দেখা যাবে, সে মুরগিটা বিক্রি করে শুকনো (গঞ্জিকা) খেয়ে ঝিম মেরে পড়ে থাকবে।' অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম,...

হোম কোয়ারেন্টাইন

Image
দৈত্য যখন হোম কোয়ারেন্টাইনে ঘুমের মধ্যেই শুনতে পারছি। হঠাৎ ঘুম ভেঙে লাফিয়ে উঠে বসলাম। টিভির দিকে তাকিয়ে দেখি অফ আছে। মোবাইল চেক করে দেখি এফএম রেডিও বন্ধ। তাহলে এই গানের আওয়াজ কোত্থেকে আসছে? বাহির থেকে আসছে কি-না জানালা দিয়ে উঁকি দিলাম। নাহ, বাহির থেকে আওয়াজ আসছেনা। আওয়াজ ঘরে মধ্যেই হচ্ছে। আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলাম। গানটি,  আলিফ লায়লা,  আলিফ লায়লা,  আলিফ লায়লা... দেখ সব নতুন কাহিনি... মন ভরে যায় তার বানী... কত যুগ পেরিয়ে গেছে... নতুন তবুও রয়ে গেছে... আলিফ লায়...লা...আ...আ...আ... আমি নিশ্চিত ঘরের মধ্যে আলাদীনের দৈত্যে অবস্থান করেছে। আমি তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগলাম। এককোণে কুপীর মতো কী যেন দেখা যাচ্ছে। আমি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম। ইউরেকা, আমি পেয়ে গেছি আলাদীনের আশ্চর্যের প্রদীপ! এই ঘরে আলাদীনের আশ্চর্যের প্রদীপ কোথা থেকে এলো? সেটা আমার জানার বিষয় না, আমি প্রদীপটা পেয়েছি। এটাই বিষ্ময়কর বিষয়! প্রদীপের গায়ে বাংলা হরফে লেখা 'বয়সের ভারে তিনটি ইচ্ছা পূরণের ক্ষমতা নেই। তবে একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পারি।' মনে মনে ভাবি, ইস! তিনটি ইচ্ছে পূরণ হলে ভালো হতো। যাইহোক, একটা ইচ্ছে প...

করোনা ভাইরাস

Image
রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশী বাজাচ্ছিল। ঠিক তেমনই করোনা যখন ধেয়ে আসছিল, সরকার তখন উৎসবে মেতে ছিল। হাতে যথেষ্ট সময় পাওয়ার পরেও সরকার বিমানবন্দর গুলোতে থার্মাল চেকাপ বাড়ানো বা লক ডাউন করে নাই। কোয়ারেন্টাইন গুলো সেনাবাহিনীর আওতায় নিয়ে আসে নাই। ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক রেডি রাখে নাই। সরকারের গাফিলতির কারণে করোনা ভাইরাস দেশে প্রবেশ করে মহামারীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিদিনই তিন এর ঘরের নামতা আওতাতে আওতাতে আক্রান্তের সংখ্যাটা বাড়ছিল। এখন তিনের ঘরের নামতা এক লাফে ছয়ের ঘরে গিয়ে ঠেকছে। আল্লাহ ভাল জানে, শেষমেশ কত ঘরের নামতায় গিয়ে ঠেকে?  টি আই বি রিপোর্ট বলছে, করোনায় আক্রান্ত ১২ হাজারেরও অধিক! সরকার সঠিক সংবাদ প্রকাশ করছেনা! আবার এটাও ঠিক, পরীক্ষা করার অভাবে অনেক জানা সম্ভব হচ্ছেনা। So that's means, No Test. No Corona. Corona is under control. 'করোনা মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ যথেষ্ট! আওয়ামী লীগ তারচে’ অধিক শক্তিশালী!' ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আপনারা করোনাকে ভয় না পেয়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! বগল বাজাচ্ছেন নাসিম সাহেবের কথায়, 'শেখ হাসি...

আর কি দেখার বাকি আছে?

Image
সকালবেলা নাস্তা করার পর চায়ে চুমুক দিয়ে ফেসবুকে ঢুঁ মারছি। নিউজ ফিডে একটা ছবি দেখে চা ভিতরে না ঢুকে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো। এটা দেখে বউ অবাক হয়ে বলল, 'কী ব্যাপার! বিষম খেলে নাকি? আমি মুখ মুছতে মুছতে বললাম, 'নাহ, আক্কেলগুড়ুম হয়েছে।' একথা শুনে সে আরও অবাক হয়ে বলল, 'আক্কেলগুড়ুম! কিভাবে হলো?' বললাম, 'আক্কেল দাঁতের সাথে বারি খেয়ে চা ভিতরে না ঢুকে বেরিয়ে গেছে।' 'আজব কথা! আক্কেল দাঁতের সাথে চা বারি খায়! ক্যামনে?' তার এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মোবাইলে ছবিটা দেখিয়ে বললাম, 'বঙ্গবন্ধুকে সারাজীবন ভাষন দিতে দেখেছো, আজ দেখ বঙ্গবন্ধু বসে শিক্ষামন্ত্রীর ভাষন শুনছে। হাততালি দিচ্ছে মাথায় স্কার্ট পড়ে। বে-আক্কেল কান্ডকারখানা দেখে আক্কেলগুড়ুম হয়ে চা বেরিয়ে গেছে, এজন্য শুকরিয়া আদায় করো। ভাগ্যিস, আলজিভের সাথে লটকে থাকে নাই। তাহলে বিপদে পড়ে যেতাম।' বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। হাজারো বঙ্গবন্ধুর মুখোশ ছাত্রীদের মুখে লাগিয়ে যারা এমন কান্ডটা ঘটালো। তারা বলদ ছাড়া আর কিছুনা। এই বলদগুলোর জানা উচি...

এক অসহায় বাবা

Image
এক অসহায় বাবা বাসা থেকে বের হচ্ছি, হঠাৎ ধপাস করে হাত ফসকে তালাচাবি মেঝেতে পড়ে ছিটকে গেলো। আমি তালাচাবি কুড়িয়ে হাতে নেড়েচেড়ে নষ্ট হয়েছে কি-না চেক করলাম। তারপর বাসায় তালা লাগিয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হলাম। হুট করে এমন কেন হলো? সেটা বুঝতে পারলাম, তার কিচ্ছুক্ষণ পরই। রাস্তায় এসে গাড়িতে উঠছি মাত্র, চাচাশ্বশুর ফোন দিলো। রিসিভ করতেই বলেন, নওরিন হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। মুখ দিয়ে ফেনার মত লালা বের হচ্ছে। আমি প্রচন্ডরকম শক খেলাম, আমার দু'বছরের বাচ্চা মেয়ের এমন খবর শুনে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে অফিসে গেলাম। অফিসের ম্যানেজার স্যারকে বলেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছি আর কাঁদছি। এছাড়া অসহায় বাবার আর কিছু করার নাই। রাস্তায় কিছুটা জ্যাম থাকায় বাস থেকে নেমে পাগলের মত দৌড় দিলাম। টেকনিক্যাল মোড়ে এসে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে টিকিট কেটে রানিং বাসে চড়ে বসলাম। পাবনা সদর হাসপাতাল থেকে আমার বাচ্চাকে রাজশাহী অথবা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছে শুনে আমার অবস্থা পাগল প্রায়। বুক ফেটে কান্না হুহু করে বের হচ্ছে। আমি পাগলের মত কাঁদছি আর ঝড়ে বিধস্ত পাখির মত শুধুই ছটফট কর...