Posts

বন্ধুর টাকার শ্রাদ্ধ

Image
জীবনে বন্ধুর প্রয়োজন আছে, তবে অকৃতজ্ঞ বন্ধু না। বন্ধু ছাড়া জীবন লবণ ছাড়া তরকারির মতন পানসে। তাই জীবনের একটু স্বাদের জন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে চেষ্টা করি, সব বেসিক্যাল বন্ধুদের সাথে দেখা করার। তবে সময়ের অভাবে সবার সঙ্গে দেখা করা সম্ভবও হয়না। গতকাল কিছুটা ব্যস্ত ছিলাম বটে, তবুও রাতে শহরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেছিলাম। সেইসময় আমার ছোটবেলার কিছু ফ্রেন্ডস আমার সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য ফোন দিলো। বললাম, শহরের অমুক জায়গায় আছি। চলে আয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা চলে এলো। আরও একটা ফেন্ড আসবে। ওর আসতে দেরি হওয়ায় বললাম, তোরা কিছুটা সময় অপেক্ষা কর। ও আসলেই একসাথে বসে আড্ডা দিবো। আমি রেস্টুরেন্টে আগের বন্ধুদের সাথে খাওয়াদাওয়া করে তাড়াতাড়ি বিদায় নিলাম। তারপর ওদের ফোন দিলাম। ওরা আরেকটি রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি ওদের নিয়ে সেই রেস্টুরেন্টে গেলাম। মাত্রই খেয়েছি তাই আমি আর খেলাম না। ওরা ওদের পছন্দমতো অর্ডার দিলো। খাওয়া শেষে আমি বিল পরিশোধ করে ফেলেছি। সবাই উঠে দাঁড়িয়েছে, তারপরও একবন্ধু বলে আরেকটা শিক খায়। যদিও একেকজন ডাবল শিক কাবাব খেয়েছে। আমি আবারও শিক কাবাব অর্ডার দিলাম। অবাক বিষয়...

কাঙ্গালি ভোজ

রাতে হঠাৎ নুরা পাগলা আমার বাসায় এসে হাজির। ওকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, -তুই! এতো রাতে? কাঁদোকাঁদো গলায় নুরা পাগলা বলল, -মহা বিপদে পড়ছি, গুরু। আমারে উদ্ধার করেন। -কি হয়েছে তোর? -সে এক মহা সমস্যা... -আরে, খুলে বল -গুরু, পেটে সমস্যা -কি, ডাইরিয়া হয়েছে? -গুরু, সেটা হলে ত বাঁচতাম -তাহলে, কি হয়েছে?  -গুরু, বদহজম হয়েছে। আপ-ডাউন কিচ্ছুই হচ্ছে না -মানে? -হাগু হচ্ছে না, আবার বমিও হচ্ছে না -কি বলিস! তা খেয়েছিস কী? -কাঙ্গালি ভোজ মনে পড়ে গেলো, আজ ১৫ই আগষ্ট শোক দিবস। এইদিনে চারিদিকে শোকের বিরিয়ানির উৎসব চলে। নিশ্চয়ই নুরা পাগলা শোকের বিরিয়ানি খেয়েছে। সে সারাবছর পঁচা-বাসি আর পান্তা খায়। পেট ওটাতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আজ বিরিয়ানী খেয়েছে, সেটা পেট কাউন্ট করতে পারছে না। আর সেজন্যই হয়তো পেট কোন আউটপুট দিচ্ছে না। আমি নুরা পাগলাকে আশ্বস্ত করে বললাম, -শোন, মানুষের যেখানে ডাল ভাত জোটে না। সেখানে তুই বিরিয়ানী খেয়েছিস! ভালো। সারাবছর পর একদিন ভালমন্দ খেলে যা হয়, তোর তাই হয়েছে। মানে, বদহজম। -এজন্যি ত, আপনার কাছে আইছি। আপনে টেটমেন্ট দ্যান। -আমি ট্রিটমেন্ট কিভাবে দিবো। আমি কি ডাক্তার?...

রান্নাবাড়া

Image
ওষুধ ছিটালে উত্তরের মশা দক্ষিণে যায়, আর দক্ষিণের মশা উত্তরে যায়! তেমনই আমিও দৌড়ের উপর আছি। ব্যস্ততা এতোটাই, প্রিয়া সাহার গুম হওয়া সংখ্যালঘু সংখ্যার চেয়েও বেশি হবে। 'ডেঙ্গু ছেলেধরার মতো গুজব’ বলে সিডি চালিয়ে মেয়র সাব বসে থাকলেও আমার একমুহূর্ত বসে থাকার অবসর নাই। ডেঙ্গুর প্রকোপে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রুগীর উপচে পড়া চাপে হিমশিম খাচ্ছে। সেইসাথে রোগ নির্ণয়ের প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ বাড়ছে প্রচন্ডরকমের। গত সপ্তাহ থেকে সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত একটানা অফিস করছি। রাত দুটায়/আড়াইটায় বাসায় ফিরতেছি। এইটা আমার পক্ষে কেমনে সম্ভব হচ্ছে, জানিনা। তবে মানুষের সেবায় নিয়জিত আছি, এটাই বড় কথা। এদিকে বাসায় গিন্নী নাই। গ্যাস্টিকের কারণে হোটেলের খাবার খেতে পারিনা। গিন্নীর রান্না করে দেওয়া ফ্রিজের খাবারও শেষ। তাই ব্যাচেলরের মত ডিম আনি, ডিম খাচ্ছি। ম্যানেজার স্যারকে বললাম, 'স্যার, গিন্নী না থাকায় খাওয়াদাওয়া কষ্ট হয়ে গেছে।' স্যার আমার ও আমার সহকারীর জন্য অনুরাগের চিকেন বিরিয়ানির ব্যবস্থা করলো। আয়োজনটা একদিনের জন্য হলো, তারপর আর কোন আওয়াজ নাই। আমিও সাইলেন্ট মুডে গিয়ে ধুমসে ...

নুরা পাগলা যখন ছিনতাইকারী

Image
অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরছিলাম। ল্যাম্পপোস্টের স্বল্প আলোতে তাকিয়ে দেখি, নুরা পাগলা এক লোকের মাথায় পিস্তল তাক করে বলছে, -আমি ছিনতাইকারী নুরা মাস্তান। তাই বলে আতঙ্কিত হবেন না। নিজের ওপর আস্থা রাখুন। বড় বড় শ্বাস নিন। ধীরে ধীরে আপনার মূল্যবান জিনিসগুলা আমার সামনে বাহির করুন। ভদ্রলোকটি প্রাণের ভয়ে দ্রুত মোবাইল ও মানিব্যাগ বের করে নুরা পাগলার সামনে ধরলো। নুরা পাগলা মোবাইলটা হাতে নিয়ে গোয়েন্দাদের মতো নেড়েচেড়ে বলল, -ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেল? লোকটি ভয়ে ভয়ে উত্তর দিল, -ফ..ন্টে আট, ব্যা..কে তেরো মেগা..পিক্সেল নুরা পাগলা মোবাইলটা নাড়াচাড়া করতে করতে  বলল,  -শোনেন, ডেইলি যত এক্সিডেন্ট হয়। তার অর্ধেকই এই ফোনের কারনে। তাই ফোনটা রেখে দিলাম। লোকটি কোন প্রতিক্রিয়া নাই। নুরা পাগলা তার মানিব্যাগটা পরখ করে বলল, -মানিব্যাগ এত মোটা ক্যান? ভিজিটিং কার্ড দিয়ে ভরে রাখছেন, দেখছি। মোটা মানিব্যাগ পিছে রাখলে ব্যাকসাইডে প্রব্লেম হয়, বুজছেন? এবার লোকটি উত্তর দিল,   -বু..ঝছি নুরা পাগলা পরামর্শ দিয়ে বলল,   -কার্ড রাখার জন্য কার্ডহোল্ডার পাওয়া যায়। কিনে নিয়েন।...

সোনার বালা

Image
আমার গিন্নী একটা আজব কিসিমে’র মানুষ। তার হাতের জিনিসপত্র উধাও হওয়ার একটা বাতিক আছে। এই যেমন, হাতের আংটি, কানের দুল উধাও হয়ে যাওয়া। নাকফুল ড্রেসিংটেবিলের উপর খুলে রাখছে তো মূহুর্তের মধ্যে সেটা উধাও।  এবার ঈদে মেয়ের জন্য দুটা ড্রেস কিনেছি। তার একটা উধাও। ওয়ারড্রব, ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ার তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। হয়তো মার্কেট থেকে কিনে মার্কেটেই রেখে আসা হয়েছে। তবে আমার গিন্নীর মতে, সে বাসায় এসে বাচ্চাকে পড়িয়েছে। অতপর উধাও। ঈদের পরের দিন। বাড়ি ভর্তি আত্মীয়-স্বজনের সমাগম। ছোটভাইয়ের পরিবারের নতুন অতিথির আগমনের উপলক্ষে ছোটখাটো অনুষ্ঠান চলছে। সবকিছু সুন্দরভাবে হয়েছে। বিপত্তি ঘটলো সন্ধ্যার দিকে, হঠাৎ গিন্নী খেয়াল করে তার ডান হাতের 'সোনার বালা' উধাও।  আজব একটা ব্যাপার। সারা বাড়ি তছনছ করে খোঁজা হলো। কিন্তু কোথাও নাই। দুঃখ ভারাক্রান্তে মনে গিন্নী আমার চেষ্টা করে কোথায় কোথায় গিয়েছিল সারাদিন। বাম হাতের বালা আছে। শুধু ডান হাতের টা উধাও৷ তারমানে, ডান হাতে কোনকিছু ছুড়ে মারতে গিয়ে হয়তো পড়ে যেতে পারে। মনে পড়েছে, সন্ধ্যার একটু আগে বাচ্চার মেঝেতে পায়খানা করেছিল। বাচ্চ...

মগেরমুল্লুকে একদিন...

Image
মিরপুর গোলচক্করের কাছাকাছি আছি। হঠাৎ নিম্নচাপ অনুভব করলাম। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম,  -ভাই, আশেপাশের কি ফাইভ স্টার হোটেল আছে? সে পথচারী আড়চোখে আমার দিকে দৃষ্টি দিয়ে চুপচাপ হাঁটা দিল। আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, - ভাই, আশেপাশে কি ফাইভ স্টার হোটেল আছে? সেও কৌতূহলী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো তারপর প্রশ্ন করল, - কেন? বললাম, - একটু মুতবো এই কথা শুনে সেই পথচারী রেগে গিয়ে বলল, - ধুর মিয়া, আমার লগে ফাজলামি করেন? অবাক হয়ে বলল, - ও কি! আমি ফাজলামো করলাম কোথায়? - ফাজলামি না তো কী, পেচ্চাপ করার জন্যি ফাইভ স্টার হোটেল খুঁজেন? - ভাই, মেয়র সাহেব কথা শোনেনি। পাবলিক টয়লেটগুলা ফাইভ স্টার হোটেল হয়ে গেছে।  এবার আরেকটু  রেগে চেতে গিয়ে বলল, - রাখেন মিয়া, চান্দিছিলা মেয়রের কথা। কত বড় আহহম্মক হলে রাস্তায় ময়লা ফেলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালায়? এসব অযোগ্য লোক, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসেছে বলেই আজ দেশের এই দূরাবস্থা? উনার লেকচার এখন শোনার আমার টাইম নাই। জরুরী ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার দরকার। ছুটলাম ফাইভ স্টার হোটেল মানে পাবলিক টয়লেট খুঁজতে। ব...

দৈনিক ফেসবুকে

Image
একদিন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছি। আমায় দেখে এক পরিচিত মুরব্বি চাচা প্রশ্ন করলেন, -শুনলাম, তুমি নাকি লেখালেখি করো? -চাচা, এই টুকটাক চেষ্টা আর কী -তা বাবাজী, কোন পত্রিকায় লিখো? -'দৈনিক ফেসবুকে' আমার চটজলদি উত্তর শুনে অবাক হয়ে বললেন, -এইটা আবার কোন পত্রিকা? -চাচা, এইটা পত্রিকা না। সোস্যাল নেটওয়ার্কে লিখি। -তাহলে 'দৈনিক' বললে কেন? -দৈনিক'ই লিখি। তাই বলেছি... -আচ্ছা! তা, কি লিখো। গল্প না কবিতা? -চাচা, এসব কিছুই লিখি না -তাহলে লিখো কি? -স্ট্যাটাস লিখি -স্ট্যাটাস! সেতো খান্দানী ব্যাপার-স্যাপার। লেখা যায় নাকি? -চাচা, সেই খান্দানী ব্যাপারই ফেসবুকে মামুলি ব্যাপার। -বুঝেছি, তা তোমার লেখার বিষয়বস্তু কী? -চাচা, 'শান্তি মলম' শিক্ষিত চাচা বুঝতে পেরে ইয়ার্কির সুরে বললেন, -কবিরাজি, ভালোই করছো তাহলে? -জ্বী চাচা, ঘুণেধরা সমাজের রন্ধে রন্ধে চুলকানি-বিখাউজ। কবিরাজি না করে উপায় আছে। -শুনেছি, তোমার শান্তিমলমে নাকি লোকের গা জ্বলে? -দাদ-একজিমা গোষ্ঠীর লোক হলে কিছুটা জ্বলে... -তাহলে শান্তি কোথায়? -আছে তো -কই?  -চাচা, এইযে চু...